মীর শোয়েব, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে পাসপোর্টবিহীনভাবে দেশে প্রবেশের সময় ৪ শিশুসহ ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে মোট ২১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ জানায়, রবিবার (২২ মার্চ ) ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে ডিবির হাওর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে কদমখাল এলাকায় পৌঁছালে জৈন্তাপুর মডেল থানা-এর এসআই বিদ্যুৎ পুরকায়স্থের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আটককৃতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের বাড়ি খুলনা, যশোর ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি লেগুনার চালক—ইকবাল হোসেন (২৪) ও রুস্তুম আলী (৩৩)—কেও আটক করেছে পুলিশ।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম একুশে সিলেট-এ মানবপাচার সংক্রান্ত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, জৈন্তাপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিন রাতে বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষকে অবৈধভাবে পারাপার করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পাচারের শিকারদের মধ্যে নারী ও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। সম্প্রতি পাচারের অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন নারীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
নলজুরি, আমস্বপ্ন, খাসিহাওড়, গোয়াবাড়ি ও ডিবির হাওর এলাকা দিয়ে নিয়মিত এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় পাচারকারীরা সহজেই এসব রুট ব্যবহার করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই পাচার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযুক্ত হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠে এলেও এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জৈন্তাপুর থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি জানান, মানবপাচার চক্র শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply